শ্রী শ্রী ঠাকুরের চোখে - বিকাশের দর্শন, জীবনের আন্দোলন
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবার, কর্ম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্য দিয়ে পূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার পথ
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আন্দোলনকে যদি একটিমাত্র কথায় বলতে হয়, তাহলে বলব — এ হলো বাঁচাবাড়ার আন্দোলন।
বাঁচা মানে শুধু শ্বাস নেওয়া নয়। বাড়া মানে শুধু বয়স বাড়া নয়। বাঁচাবাড়া মানে — প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে পূর্ণভাবে বিকশিত হোক। তার ভেতরের শক্তি জেগে উঠুক। তার জীবন অর্থপূর্ণ হোক। এই ছিল শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বপ্ন — এবং এই স্বপ্নই সৎসঙ্গ আন্দোলনের প্রাণ।
এই আন্দোলন একাধারে জনমুখী এবং গণমুখী। একদিকে প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব বিকাশ, অন্যদিকে সমাজের সামগ্রিক উন্নতি — দুটো লক্ষ্য একসাথে । কারণ শ্রীশ্রীঠাকুর জানতেন, ব্যক্তি ও সমাজ আলাদা নয়। একজন মানুষের ভেতরে আলো জ্বললে তার আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে । আর চারপাশ আলোকিত হলে মানুষের ভেতরে ও আলো আসে ।
তাই এই আন্দোলনকে তিনি কোনো আশ্রমের চার দেয়ালে বন্দী রাখতে চাননি । জঙ্গলে একা বসে ধ্যান করা— এ তাঁর পথ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন এই আন্দোলনের স্পন্দন পৌঁছে যাক জনে জনে , প্রাণে প্রাণে — সংসারের মাঝে, কর্মের মাঝে, জীবনস্রোতের ভেতরে ।
সেই প্রেরণা থেকেই সৎসঙ্গ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে তৈরি হয়ে ছিল নানা পত্রপত্রিকা। কারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে মানুষের ভাষায় কথা বলতে হবে । মানুষের সমস্যাকে বুঝতে হবে । তারপর সেই সমস্যার সমাধান দিতে হবে —শাস্ত্রের ভাষায় নয়, জীবনের ভাষায়।
আর সমস্যার কী অভাব ছিল? সমাজে তখন সমস্যার মহাসমুদ্র। শিক্ষার সমস্যা, স্বাস্থ্যের সমস্যা, নারীর সমস্যা,পরিবারের সমস্যা, ধর্মের সমস্যা, রাষ্ট্রের সমস্যা — চারদিকে শুধু সমস্যা। মানুষ দিকভ্রান্ত। কোথায় যাবে , কাকে জিজ্ঞেস করবে , কার কথা শুনবে — কিছুই বুঝতে পারছে না।
শ্রীশ্রীঠাকুর এই দিকভ্রান্ত মানুষগুলোকে দেখেছিলেন। তাদের যন্ত্রণা অনুভব করে ছিলেন — গভীরভাবে , প্রাণ দিয়ে । এবং প্রতিটি সমস্যার জন্য তিনি দিয়েছিলেন সহজ, সরল, বিজ্ঞানসম্মত সমাধান। সেই সমাধান কোনো কল্পনার জগতের কথা নয় — তা জীবনের মাটি থেকে উঠে আসা কথা।
সেই কথাগুলোই এই সিরিজে ধীরে ধীরে তুলে ধরার চেষ্টা করব। আজকের দিনের আলোয়, আজকের মানুষের জন্য।
(ক্রমশ:)


